১. আপনি কি ছ্যাকা পান করেছেন? আপনার বিশটা লেখার তেত্রিশটাতে বিরহ বিরহ ঝিমুনি। বিরহের লেখা যদি লেখেনই তবে লেখার সাথে চোখের জল মুছতে টিসু মাস্ট দিবেন। অনু, অপূর্ণা, সুবর্ণা ছাড়া কি আর কোনো ভালো নাম আপনার জানা নেই? এবার হাসি-খুশির গল্প বলবেন। দিস ইজ মামার বাড়ির অবদার। নয়তো পাঠকের মার তো কখনো খাননি। খেলে বুঝবেন, কত পৃষ্ঠায় কত গল্প হয়! ভয়াবহ হুমকির জোয়ারে রম্য গল্প লিখতে বসলাম। জানেনই তো মার কেমন বস্তু। তরতাজা রসগোল্লা তো নয়, যে ইচ্ছে মতো খাবো। ২. দাদারা দাদাগিরি করবে নাতো কে করবে? আমার চারজন দাদা। কাইয়ুম, কামরুল, মহসিন ও রুবেল। সারাদিন দোকানে গলাবাজি, চাপাবাজি, আড্ডা মারবে আর আমাদের কাছ থেকে জোর যার মুল্লুক তার সুত্রে বিনে নোটিসে টাকা ছিনতাই করবে। তাই কেউ বেধে বা সেধে দোকানে না নিলে আমি আর মাসুদ দোকানের দুইশ’ গজ দূরে থাকি। আজ দোকানে যেতেই মাসুদের কামরুল কাকা বললেন, তোমাদের মতো ইয়াংম্যান বাড়িতে থাকতে গাছে টসটসে ডাব ঝুলে। ওহে নির্বোধ বালকরা তোমাদের মতো থাকতে আমরা যতো ডাবের পানি খেয়েছি তোমরা ততো গ্লাস পানিও খাওনি। কাইয়ুম পাটওয়ারী লেকচারের ভঙ্গিতে সন্ন্যাসী ধারায় বললেন, ওহে বৎস, আজ তোমাদিগকে ডাব চৌর্যের স্মৃতিচারণ শোনাবো। আমাদের শত বাধা সত্তে¡ও তিনি বলতে শুরু করলেন। ৩. গত বছরের ঘটনা। আমরা চারজন হুজুর সাহেবের বাগানে ডাব চুরি করতে গেলাম। একবার কে যেনো বলছিলো, ডাব খাইলে পাপ নাই। সেই থেকে ডাব চুরি করে খাওয়া শুরু। গাছে উঠলো কামরুল। আমরা নিচে দাঁড়ানো। কামরুল ডাব পাড়ছে ধুপ-ধাপ, ঠুস-ঠাস। হঠাৎ টের পেলাম হুজুর সাহেব লাঠি হাতে তেড়ে আসছেন। আমরা তিনজন চম্পট দিলাম। এদিকে হুজুর সাহেব গাছ তলায় পৌঁছে ক্ষেপে গলায় বললেন, ঐ কামরুইল্লা গাছ থেকে নাম। পা ভাইঙ্গা যদি হাতে না ধরাইয়া দিছি তবে আমার নাম...। কামরুল গাছে বসে খিক্ খিক্ হাসে। বলে ঐ মিয়া। গাছতলা থেকে সরবেন না ডাব মেরে মাথাটা ছাতু করে দেবো। হুজুর সাহেব বরাবর একটা ডাব ছুড়লো সে। হুজুর সাহেব আঁতকে উঠলো। হুজুর বললেন, না বাবা নামার কোনো কাম নাই। তুমি ডাব পাড়। আমি যাইতাছি গা, দা লাগবোনি বাজান। ৪. আমার স্যার ঘুটঘুটে অন্ধকারে দিনে বাছাই করা গাছে উঠলো রুবেল। গুটি কয়েক ডাব পেড়ে গাছের নারিকেলও পাড়া হলো। গাছ ফাঁকা। সকালে সেই নারকেল বিক্রি করা টাকা দিয়ে আমরা পেট পুরে ডিম-পরোটা খেলাম। বিকেলে মুখ হাড়ি করে কামরুল এসে বললো, কাল রাতে ¯^পন ভাইয়ের গাছ থেকে ডাব না পেড়ে আমাদের গাছটাই ধোলা করে দিলি! গাছতলায় গিয়ে বুঝতে পারলাম। যেই গাছে উঠার প্লান করেছিলাম সেটায় না উঠে পাশের গাছে উঠেছে রুবেল। আর পাশের গাছটা কামরুলদের। যে গাছটা এখন ডাব-নারিকেল শূন্য। একেই বলে পরের জন্য গর্ত খুড়লে সে গর্তে নিজেই পড়ে। ৫. শীতের রাত একটা হলে ঝলমলে জ্যোৎসা আকাশে। যথারীতি আমরা চারজন। গাছ দীপু ভাইদের। গাছে উঠলো মহসিন। আমরা তিনজন গাছতলায় দাঁড়িয়ে শীতে কাঁপছি। শীতের রাত বলে ভুত-পেতœী শীতের ভয়ে পালিয়েছে। হঠাৎ মহসিন হাসলো। হাঃ হাঃ হিঃ হু খিক্ খিক্। আমরা ভয়ে দৌড় দৌড়াই বলে। তাজ্জব! চুরি করতে এসে কেউ কি এতো জোরে হাসতে পারে। তাও আবার গাছে অর্ধেক উঠে। ভাবলাম, জ্বিনে ধরলো নাকি। রুবেল ভাই বাড়ি মারলেন এই এতো হাসছিস্ ক্যান। মহসিন বলে, ভাই আমার উপরে আরো একজন আছে। অর্থাৎ আমাদের আগে একজন চুরি করতে এসে গাছে উঠেছে। আর তার পেছন পেছন মহসিন গাছে উঠছে। গল্প আপাতত শেষ। কামরুল পাটওয়ারী বললেন, শুনলি তো দাদারা কতো জিনিয়াস। আর তারই উত্তরসুরী হয়ে...। তোরা বাড়িতে থাকতে গাছে টস টসে ডাব ঝুলে। মাসুদ হঠাৎ ক্ষেপে গেলো। আমরা কি আর কম চুরি করি। পরশু দশটা ডাব পারলাম কাইয়ুম পাটওয়ারীর গাছ থেকে। গতকাল সাতটা পাড়লাম মহসিন ভাইয়ের গাছ থেকে। আজ পাড়বো...। চেয়ে দেখি দাদারা সবাই আদাজল খেয়ে লাঠি খুঁজছেন। আমি আর মাসুদ তখন ভৌ দৌড় দিচ্ছি। আচ্ছা পাঠক বলুন তো, দাদাদের দাদা কারা?
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
প্রজ্ঞা মৌসুমী
শুরুটা পড়তে বেশ ভালো লাগছিল। শেষে দেখি চোরের উপর বাটপারি। আপনার লেখায় সহজ একটা রসবোধ ছিল। 'কত পৃষ্ঠায় কত গল্প' মজার একটা উপমা। গল্প জুড়ে রম্যরস পেয়েছি, তাই আমি বলবো 'খুব ভালো'। নেগেটিভ দিক- মাঝে মাঝে মনে হয়েছে নাম্বারিং না করে দুই-এক বাক্য জুড়ে দিয়ে যোগসূত্রটা হলে ভালো হতো। "আমার স্যার ঘুটঘুটে অন্ধকারে" বাক্যটার মানে বের করতে করতে পারলাম না। কোথাও বলা হচ্ছে কাকা/ আবার দাদা। আমার মনে হলো আরেকটু যত্ন নিলে গল্পটা আরো অনেক সুন্দর হতো। এটা আপনার প্রথম গল্প এখানে; আশা করি আরো লেখা পাবো।
বুঝলাম আপনি গল্পটা খুব যত্ন সহকারে পড়েছেন। এজন্য আপনাকে ধন্যবাদ। হ্যা.....লেখাটাতে কিছু বিচ্ছিন্নতা আছে। আপনি যে ভুল গুলো ধরেছেন তা সত্যি। আসলে যত্ন নেই না বলে এমন হয় আরকি!
এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের আংশিক অথবা কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী থাকবে না। লেখকই সব দায়ভার বহন করতে বাধ্য থাকবে।
বিজ্ঞপ্তি
“ ” সংখ্যার জন্য গল্প/কবিতা প্রদানের সময় শেষ। আপনাদের পাঠানো গল্প/কবিতা গুলো রিভিউ হচ্ছে। ১ , থেকে গল্প/কবিতা গুলো ভোটের জন্য উন্মুক্ত করা হবে এবং আগামি সংখ্যার বিষয় জানিয়ে দেয়া হবে।